Thursday, March 27, 2025



পেঁপে বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ও লাভজনক ফসল, যা সারা বছরই চাষ করা যায়। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ফলটি কাঁচা ও পাকা—উভয় অবস্থায়ই ব্যবহার করা হয়। পেঁপে চাষের জন্য নিম্নোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে:​

জমি নির্বাচন ও প্রস্তুতি

পেঁপে চাষের জন্য উর্বর পলি দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে সমান করে নিতে হবে, যাতে পানি জমে না থাকে। গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১.৮ মিটার ও সারি থেকে সারির দূরত্ব ১.৮ মিটার রাখা উচিত। প্রতি হেক্টরে প্রায় ৯,০০০ চারা রোপণ করা যায়।

বীজতলা ও চারা উৎপাদন

পেঁপের বীজ থেকে চারা উৎপাদনের জন্য পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। ৫x৪ ইঞ্চি আকারের ব্যাগে সমান পরিমাণ বালি, মাটি ও পচা গোবরের মিশ্রণ ভর্তি করে নিতে হবে। প্রতি ব্যাগে ২-৩টি বীজ বপন করে হালকা পানি দিতে হবে। চারা ৪০-৪৫ দিন বয়স হলে মূল জমিতে রোপণের উপযোগী হয়।

মাদা তৈরি ও চারা রোপণ

চারা রোপণের জন্য ৪৫ সেমি লম্বা, ৪৫ সেমি চওড়া ও ৪৫ সেমি গভীর গর্ত (মাদা) খুঁড়তে হবে। গর্তের মাটি বের করে তার সাথে ১০ কেজি গোবর সার, ৫০০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০ গ্রাম জিপসাম, ২০ গ্রাম জিংক সালফেট ও ২০ গ্রাম বোরিক এসিড মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। চারা রোপণের ১৫-২০ দিন আগে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনা

চারা রোপণের ১ মাস পর থেকে প্রতি মাসে একবার করে ইউরিয়া ও এমওপি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি গাছে ইউরিয়া ও এমওপি ৫০ গ্রাম করে প্রয়োগ করা হয়; ফুল আসার পর এই মাত্রা দ্বিগুণ করতে হবে। ফল সংগ্রহের ২ মাস আগে সার প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে।

সেচ ও আগাছা নিয়ন্ত্রণ

পেঁপে গাছের গোড়ায় পানি জমে গেলে কাণ্ড পচা রোগ হতে পারে, তাই অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। শীতকালে ১০-১২ দিন পরপর এবং গ্রীষ্মকালে ৭-৮ দিন পরপর সেচ দেওয়া উচিত। সেচের পর মাটি আলগা করে দিতে হবে। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করে মাটির উর্বরতা বজায় রাখা জরুরি। 

রোগ ও পোকামাকড় দমন

পেঁপে গাছে ঢলে পড়া, কাণ্ড পচা, মোজাইক রোগ এবং মিলিবাগ পোকার আক্রমণ হতে পারে। রোগ প্রতিরোধের জন্য আক্রান্ত গাছ বা অংশ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। পোকা দমনের জন্য অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে, যেমন ইমিডাক্লোরোপ্রিড (এডমায়ার) ৭-১০ মিলিলিটার প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা যায়।

ফলন ও সংগ্রহ

চারা রোপণের ৮-১০ মাসের মধ্যে পেঁপে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। পাকা পেঁপের গায়ে হালকা হলুদ রং দেখা দিলে তা সংগ্রহ করা যায়। সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতি হেক্টরে ৪০-৬০ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া সম্ভব।